Useless Effort


জীবনের এই ছোট সময়ের মধ্যে, যে টুকু অল্প শিক্ষিত হতে পেরেছি, এবং যেটুকু সমাজ চেতনা আমার মধ্যে এসেছে গত কিছু বছরে, তাদিয়ে আজ কাল খুব মনে হয় যে রাজনীতিটা নিজের পেশা বানালে ভাল করতাম। একটা এমএলএ বা এম-পি হয়ে যেতে পারলেই ব্যাস, আর কে পায়। তার উপর একটা দপ্তরের মন্ত্রি হতে পারলে তো কথাই নেই। রাষ্ট্র ক্ষমতা হল বড় ক্ষমতা। 

পলিটিক্স নাকি সহজ ব্যাপার নয়। তা আমি বলি কি, জীবনের কোন কাজটা অতি সহজেই পাওয়া যায় হে? সব কিছুর পিছনেই থাকে অক্লেশ পরিশ্রম, তীক্ষ্ণ বুদ্ধি আর জেতার ইচ্ছে। এই সবের সঙ্গে যদি থাকে একটা জমাট পেরসনালিটি তাহলে সোনায় সহাগা। আবার এইগুলো থাকলেই যে সব সমায় সফল হওয়া যায় তাওনা। সফল রাজনীতিবিদের গল্প যেমন আছে, বিগেস্ট পলিটিকাল ফেলিউরের উধারনও আনেক আছে। 

Kabir Suman

আমাদের কবীর সুমন বাবুর কথা ধরা যাক। উনি যে একজন মহান গায়াক, বাংলা আধুনিক গানের প্রধান কানডারি, বিখ্যাত শিল্পী, নিপুন লেখন শৈলীর আধিকারি, এতে কারুর কোনও সন্ধেও থাকার কথা নয়, আর যদি থেকেও থাকে সেটা অন্য আলোচনা। কিন্তু রাজনীতি যে তাঁর দ্বারা হবেনা এটা তিনি খুব ভাল ভাবেই বুঝেছেন, হয়ত একটু দেরিতেই। আর টনক যখন নড়ল তখন কিছু করার নেই, না পারছেন গিলতে না পারছেন ফেলতে - উভয় সঙ্কট। তাঁকে পাকাপাকি ভাবে পার্টি থেকে বহিষ্কার না করলেও, তিনি যে পার্টর কেউ নন সেটা আকার, ইঙ্গিতে প্রথম সারির নেতা তাঁদের পার্টি সুপ্রিমও মমতা দেবি বার বার জানাতে ভলেননি। আজ তিনি ব্রাত্য। কেউ তাঁর খোঁজ নেয়না। এসবের মধেও তিনি তাঁর এম-পি পদটি ছাড়েননি, পদে থেকেও যে তিনি মানুষের জন্যে প্রচুর কাজ করছেন, তাও নয়। উন্নয়নের কথা বাদ দিলাম। তাহলে কেন? শুধু ক্ষমতা আগলে রাখা কেন? এখন লোকে বলবে যে একটা নির্বাচন আয়োজন করা মানে কাড়ি-কাড়ি টাকার স্রাধ্য, কিন্তু তারা কি এটা ভেবে দেকছেন না যে একটা মানুষকে পাঁচ বছর ধরে বিনা কোনও কারনে পুষতেও তো একটা খরচ আছে, এবং পুরোটা আসছে সাধারন মানুষের করের টাকা থেকে। এই সাধারণ ব্যাপারটা যে আমার মাথাতে প্রথম এসেছে এমনতো নয়। আমার থেকে আনেক জ্ঞানি মানুষজন আছেন এই দেশে যারা এটা নিয়ে নিশ্চয় ভাবিত হয়েছেন, এবং নিরবাক দর্শক হয়েই রয়ে গিয়েছেন।  

সুমন বাবু মতো উদাহরন আনেক পাওয়া যাবে, আর তার জন্য বেশি পরিশ্রমও করতে লাগবেনা। আবার উল্টো দিকের উদাহরনও আনেক পাওয়া আছে, যারা রাজনীতিতে আসার পর এক প্রকার মালামাল হয়ে গেছেন। কবীর সুমন বাবুকে নিয়ে এত কথা বলার কোনও অর্থ আছে কিনা জানিনা, কিন্তু আজ হঠাৎ। যখন শুরু করেছিলাম লেখাটা, ভাবলাম বেশ করে একটা আওয়াজ (Sarcasm) দিয়ে লিখব ভদ্রলোককে, কিন্তু তা আর পারলাম কই? ধুস! এবারও পাড়লাম না। এটা প্রথম বার নয় যে আমি ওনার ব্যাপারে খারাপ কিছু বলতে গিয়েও পুরোটা বলতে পাড়লাম না। এরকমই হয় দেখেছি, আমার সাঙ্গে।

ভদ্রলোক গান বাজনা নিয়ে থাকলে ভাল করতেন। বেকার এলেন এই মরীচিকার দুনিয়ায়ে – এখানে যেটা যেমন দেখতে লাগে, সেটা তেমন নয়। বড় আলাদা। পলিটিক্স ওনার মতো সৃজনশীল, খামখেয়ালি, বদরাগী মানুষের জন্য নয়। উনি এই সত্যটি আশা করি এত দিনে বুঝেছেন।

তুমি গানের ফেরিওয়ালা, তাই গানেই হোক তোমার মুক্তি।


2 comments

Popular posts from this blog

5 Epic India-Pakistan Matches in ICC Events

Review: The Insider - Decoding the Craft of Cricket

Indian Police